শুক্রবার আই স্ক্রিনে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব ছবি ‘নয়া নোট’। রচনা ও পরিচালনায় আছেন অনন্য প্রতীক চৌধুরী। ভিন্নধর্মী কাহিনি এবং প্রতীকী বার্তা নিয়ে নির্মিত এই ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে জাহাঙ্গীর নামের এক ভিখারিকে ঘিরে।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দু
জাহাঙ্গীর রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে ভিক্ষা চায়। তবে তার চাওয়া আলাদা—সে কেবল ছেঁড়াফাটা নোট নেয়। সাধারণ মানুষের চোখে সেই নোট অর্থহীন, কিন্তু জাহাঙ্গীরের কাছে সেটিই আশার প্রতীক। গল্প এগোতে এগোতে দর্শক বুঝতে পারে, ছেঁড়াফাটা নোট আসলে মানুষের মতো—যে সমাজের চোখে অচল বা অপ্রয়োজনীয়, তারও রয়েছে অস্তিত্ব, মূল্য এবং নিজস্ব গল্প।
নির্মাণশৈলী ও অভিনয়
অনন্য প্রতীক চৌধুরী এখানে প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করেছেন। ক্যামেরার কাজের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শহরের ব্যস্ততা আর ভিখারির একাকিত্ব। জাহাঙ্গীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অত্যন্ত সংযতভাবে, যা দর্শককে ভাবনায় ডুবিয়ে রাখে। সংলাপ কম হলেও ভিজ্যুয়াল গল্প বলার ধরন ছবিটিকে আলাদা করেছে।
বার্তা ও তাৎপর্য
ছবিটি মূলত সমাজে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে অবহেলিত মানুষ ও বস্তুগুলোর কথাই বলে। ছেঁড়াফাটা নোটের মতো মানুষেরও অবমূল্যায়ন হয়—তবু তারা বেঁচে থাকে, লড়ে যায়। নির্মাতা এই প্রতীক দিয়েই দর্শককে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—আসলে কাকে আমরা মূল্যহীন ভাবি? মানুষ কি কখনো সত্যিই অচল হয়?
সার্বিক মূল্যায়ন
‘নয়া নোট’ শুধু একটি ভিখারির গল্প নয়, এটি আসলে সমাজের গল্প। যে সমাজ বাহ্যিক দৃষ্টিতে জিনিসকে অচল বা মূল্যহীন মনে করে, অথচ ভেতরে তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে মূল্য ও মানবিকতার বার্তা। ওয়েব ছবিটি দর্শককে আবেগী করবে, আবার চিন্তার খোরাকও দেবে।


