নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা সহ্য করা হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, 'নির্বাচনের ব্যাপারে আর কোনো টালবাহানা সহ্য করা হবে না।' তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, 'পতিত স্বৈরাচার, তাদের দোসর ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শত্রুরা বাংলাদেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।' এমন পরিস্থিতিতে, 'বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে,' বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খায়ের ভূঁইয়া বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ শাহাদাত বরণ করেছে, রক্ত দিয়েছে, আন্দোলন সংগ্রাম করেছে এদেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য।' তিনি সতর্ক করে বলেন, 'তা যেন না হয় সেই ষড়যন্ত্র চলছে।' তিনি দেশের মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কারো সঙ্গে কোনো আপস করবে না বলেও মন্তব্য করেন।
এছাড়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসও নির্বাচন নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, 'বিভ্রান্তিমূলক কথা বলে কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করছে।' তিনি আরও বলেন, 'এটা আমি সরকারকে বলছি না, আমি বলছি এই সরকারকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভিন্নভাবে নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন।' তিনি নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা না করার আহ্বান জানান।
এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নির্বাচন নিয়ে টালবাহানার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনকে প্রাধান্য দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'এটা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসিত করার প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু বিএনপি এই ফাঁদে পা দেবে না।' তিনি জনগণকে জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
এছাড়া, বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা বরদাশত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, 'গত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না। বিগত স্বৈরশাসকরা লুটপাট করে দেশটিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। আজও বিদেশে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।'
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নেতাদের এসব মন্তব্য সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তারা নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের বিলম্ব বা টালবাহানা মেনে নেবেন না এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কোনো আপস করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।


