গোপালগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল।

ভৌগলিক অবস্থান ও সীমানা

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাংশে মধুমতি নদী বিধৌত একটি জেলা। ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত ১৪টি জেলার একটির নাম গোপালগঞ্জ। এই জেলা ২৩°৩৬' উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৯°৫১' পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ট থেকে এর গড় উচ্চতা ৪৬ ফুট। এ জেলার পূর্বে মাদারিপুর জেলা ও বরিশাল জেলা, দক্ষিণে পিরোজপুর জেলাবাগেরহাট জেলা ও খুলনা জেলা, পশ্চিমে নড়াইল জেলা ও মাগুরা জেলা এবং উত্তরে ফরিদপুর জেলা অবস্থিত। এ জেলার পূর্ব সীমানার খাটরা গ্রামের অধিবাসী হিন্দু ধর্মালম্বীরাই এ অঞ্চলে প্রথমে বসতি স্থাপন করে। ধারণা করা হয়, এটি বল্লাল সেনের আমলের (১১০৯-১১৭৯ খ্রিষ্টাব্দ) ঘটনা। এর আয়তন ১৪৮৯ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান সমান।মুসলমান ৬৩.৬২%, হিন্দু ৩৫.১৩%, খ্রিষ্টান ১.২০% এবং অন্যান্য ০.০২%। শিক্ষার গড় হার ৫৮.১% ( ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)। জনগোষ্ঠীর প্রধান পেশা কৃষি। প্রধান ফসল ধানপাট, আঁখ ও বাদাম। বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদির মধ্যে রয়েছে চিনা, কাউন, আউশ ধান। জেলার প্রধান রপ্তানি ফসল পাট ও তরমুজ। প্রাচীন নির্দেশনাদির মধ্যে আছে চন্দ্রভর্মা ফোর্ট (কোটাল দুর্গ), বহলতলী মসজিদ (১৫৪৩ খ্রিষ্টাব্দ), সেন্ট মথুরনাথ এজি চার্চ, শ্রীধাম ওড়াকান্দির শ্রী হরিমন্দির, ননী ক্ষীরের নবরত্ন মন্দির, কোর্ট মসজিদ, কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি, দীঘলিয়া দক্ষিণা কালীবাড়ি ইত্যাদি।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

গোপালগঞ্জ জেলা পাঁচটি উপজেলায় বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে,

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

চিত্তাকর্ষক স্থান

  • টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স,
  • চন্দ্রা ভর্মা ফোর্ট (কোটাল দুর্গ),
  • কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈত্রিকবাড়ী,
  • কবি কৃষ্ণনাথ সর্বভৌম (ললিত লবঙ্গলতা কাব্যগন্থের প্রণেতা)-র বাড়ী,
  • হরিনাহাটি জমিদার বাড়ি,
  • দিঘলীয়া দক্ষিণা কালী বাড়ি,
  • বহুতলী মসজিদ (১৫৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত),
  • সেন্ট মথুরানাথের সমাধি,
  • উজানীর জমিদার বাড়ি,
  • শ্রীধাম ওড়াকান্দি,
  • জগদান্দ মহাশয়ের তীর্থভূমি,
  • ননীক্ষীরে নবরত্ন মঠ,
  • ঐতিহাসিক রমেশ চন্দ্র মজুমদারের পৈতৃক বাড়ী,
  • ধর্মরায়ের বাড়ি,
  • দীঘলিয়া দক্ষিণা কালীবাড়ি,
  • মধুমতি নদী,
  • বিলরুট ক্যানেল,
  • হিরন্যকান্দী আমগাছ,
  • আড়পাড়া মুন্সীবাড়ি,
  • শুকদেবের আশ্রম,
  • খানার পাড় দীঘি,
  • উলপুর জমিদার বাড়ি,
  • ৭১-এর বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ (স্মৃতিস্তম্ভ),
  • রাজা সমাচার দেব, ধর্মাদিত্য ও গোপচন্দ্রের আমলের তাম্রলিপি,
  • সত্য ধর্মের প্রবর্তক দীননাথ সেনের সমাধিসৌধ (জলিরপাড়, মুকসুদপুর)।
  • পাগল সেবাশ্রম, কদমবাড়ি।
  • গওহরডাঙ্গা মাদরাসা( টুঙ্গিপাড়া)
  • বাঘিয়ার বিল(টুঙ্গিপাড়া)।
  • হোগলাডাঙ্গা বড় মসজিদ।
  • ছোট বনগ্রাম জমিদার বাড়ি,
  • ভেন্নাবাড়ী মাদরাসা, গোপালগঞ্জ সদর।
  • সুকতাইল মঠবাড়ি
  • বাটিকামারী জমিদার বাড়ি
  • শেখ রাসেল শিশুপার্ক, টুুুঙ্গিপাড়া
  • শেখ কামাল স্টেডিয়াম, গোপালগঞ্জ
  • লেকপাড়, গোপালগঞ্জ শহর

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • মনিরুল ইসলাম, ডিআইজি, গোয়েন্দা পুলিশ।
  • মেহেরাব হোসেন অপি, বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান।
  • নরেন বিশ্বাস ,একজন বাংলাদেশী লেখক, গবেষক, আবৃত্তি শিল্পী এবং মুক্তিযোদ্ধা। আবৃত্তি চর্চায় তার নিপুণতা এবং বিভিন্ন গবেষণামূলক বই লেখার জন্য তাকে বাকশিল্পাচার্য বলা হয়ে থাকে।
  • মরহুম এম এ খায়ের,মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,জাতিরজনকের ৭ই মার্চের ভাষণের রেকর্ড করেন ও সংরক্ষণ করেন। বংগবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, চলচ্চিত্র পরিচালক,সাবেক এম এল এ। এই গুণিজন গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ঝুটিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বিশেষ দ্রষ্টব্য: তথ্যগুলি উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহ করা। তাই যদি কোনো তথ্য এড়িয়ে যায় তবে সেটি আমাদেরকে জানান।
ধন্যবাদ