পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রতিবন্ধী কিশোরীকে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আব্দুল মাবুদ (৫৫) নামের এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পেকুয়া থানা পুলিশ। শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
জানাযায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে উপজেলার পূর্ব মেহেরনামা পশ্চিম পাড়া এলাকায় কিশোরী ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদ একই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বলে জানা যায়।
বিষয়টি স্থানীয় মেম্বার, সমাজপ্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গরা মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিশোরীর পরিবার থানায় অভিযোগ করতে চাইলে তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে থেমে রেখেছে অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদের পরিবার। এমনি অভিযোগ তুলেছেন কিশোরীর অসহায় পরিবার।
এদিকে ঘটনার ১৪ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রাতে ভিকটিমের পিতা আবদুল মালেক বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭ টার দিকে প্রতিবন্ধী ভিকটিম কিশোরীর (নাম গোপন রাখা হলো) পাশের একটি দোকানে বাড়ির জন্য কিছু পান আনতে যায়। পান ক্রয় করে ওই কিশোরী বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা আব্দুল মাবুদ পাশের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানার পর এগিয়ে আসলে আব্দুল মাবুদ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
কিশোরীর পিতা আব্দুল মালেক বিষয়টি নিয়ে থানায় যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হুমকি দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় মেম্বার , সমাজ প্রতিনিধি ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গরা বিষয়টি মিমাংসা করার কথা বলে বৈঠকের নামে নানা অজুহাত দেখিয়ে সময় পার করার চেষ্টা করতেছে।
কিশোরীর পিতা আব্দুল মালেক বলেন, আব্দুল মাবুদ আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে একা পেয়ে সর্বনাশ করেছে। সে এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস করছে না। আমি গরীব অসহায় বলে কেউ অপরাধীর বিচার করছেনা। ঘটনার পরপরই আমি থানায় অভিযোগ করতে চাইলে তাঁরা আমাকে হুমকি দেয়। আমি আমার মেয়ের সম্ব্রমহানীর উপযুক্ত শাস্তি চাই।
পেকুয়া থানার এস.আই খাইর উদ্দিন বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পরদিন সন্ধ্যায় একদল পুলিশ নিয়ে এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে অভিযুক্ত আবদুল মাবুদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার বিকেলে এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি। শনিবার অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


