স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলায় ২০ আগস্ট দুপুর ১২ টায় অঙ্কন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠানে জীবননগরের সাংবাদিক রনি নিজে নিয়ে গিয়ে জীবননগর পৌর এলাকার দোয়াড়পাড়া গ্রামের ফেরদৌসী (৫০) নামের একজন মহিলা রোগী কে RBS পরিক্ষা করতে আছেন। এবং তিনি ১০০/- টাকার মূল্য পরিশোধ করে এই প্রতিষ্ঠান থেকে পরিক্ষা করান।
সূত্রে জানা গেছে, অঙ্কন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট প্রদান করেন। সেই রিপোর্টে RBS 14.3 আসে। তখন রোগীর লোক হতাশ হয়ে পড়েন। কারণ রোগীর ইতিপূর্বে কোন ডায়াবেটিকস ছিলো না। তাই তিনি ডায়াবেটিকস এর মুল পরিক্ষা হিসেবে পুনরায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০০/- টাকা মূল্যে HbA1C পরিক্ষা করান। এবং রিপোর্টে HbA1C 9.4 আসে।
রিপোর্ট নিয়ে রোগীর লোক বাড়িতে ফেরার আগে জীবননগর আলম মেডিকেল থেকে ডায়াবেটিকস এর ওষুধ ক্রয় করেন এবং ওখান থেকেই স্ট্রিপ এর মাধ্যমে পুনরায় ডায়াবেটিকস চেক করেন এবং আলম মেডিকেল এর স্ট্রিপ এর রিপোর্ট 7.4 আসে এবং তখন তিনি খুব বিস্মিত হলেন। রিপোর্টের বিষয়টি আরও পরিষ্কার হওয়ার জন্য তিনি পার্শ্ববর্তী জনি মেডিকেল থেকে পুনরায় স্ট্রিপ এর মাধ্যমে আবারও পরীক্ষা করার সেখানে 7.6 রিপোর্ট আসে।
এরপর তিনি পুনরায় জীবন নগর হাসপাতাল গেটে ফাইভ স্টার ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে RBS পরীক্ষা করান এবং এখানে 7.8 রিপোর্ট আসে। তখন তিনি বুঝতে পারেন দুটো স্ট্রিপ এর রিপোর্ট এবং ফাইভ স্টার ডায়াগনষ্টিক এর রিপোর্ট তিনটা কাছাকাছি আছে।
ভুক্তভোগী রোগীর লোকজন পুনরায় অংকন ডায়াগনষ্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারে যান এবং তিনি এবং টেকনোলজিস্ট মানিককে বলেন যে আপনি রিপোর্ট ভুল করেছেন। মানিক বলেন আমি রিপোর্ট সঠিক করেছি, আপনি চাইলে অন্য প্রতিষ্ঠান মনোয়ারায় রিপোর্ট করে দেখতে পারেন। রোগীর লোক তখন মানিকের কাছে এক ঘন্টা আগে টানা ব্লাডের কিছু সেরাম নিয়ে গিয়ে মনোয়ারা সেন্টারে পুনরায় পরিক্ষা করান এবং সেখানে RBS এর রিপোর্ট 5.4 আসে।
রোগীর লোকজন অংকন ডায়াগনষ্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারে এসে বলেন যে, আপনি যে আমার রোগীর পরীক্ষাগুলো করছেন RBS এবং hba1c এই রিপোর্ট গুলো মেশিনের সেভ করা ডকুমেন্টস ও ব্যবহিত কিট গুলো আমাকে দেখান।
অংকন ডায়াগনষ্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারের টেকনোলজিস্ট মানিক মেশিনে সেভ ডকুমেন্টস ও ব্যবহিত কিট দেখাতে ব্যার্থ হন। কারণ তিনি মেশিন ও কিট ব্যবহার ছাড়াই এই RBS ও hba1c পরিক্ষার রিপোর্ট দিয়েছে।
টেকনোলজিস্ট মানিক বলেন আমার মেশিন নষ্ট, আর hba1c এর রিপোর্ট মেশিনে সেভ হয় না। রোগের রোগের ভাই নিচেই বায়োমেডিকেলের একজন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় তিনি hba1c করার মেশিন আই ক্রোমা থেকে সেভ করা ডকুমেন্ট বের করেন বের করে দেখেন ২০২০ সালের ২০ শে জুলাই সর্বশেষ কাজ হয়েছে। রোগীর ভাই বলেন আপনি hba1c কিভাবে করলেন? তাহলে কি আপনি অনুমান এর উপরে রিপোর্ট করলেন? কোন রকম পরীক্ষা নিরিক্ষা না করেই ১৪.৩ রিপোর্ট কেন দিলেন? অংকন ডায়াগনষ্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টার রোগীর ভাইয়ের কোন কথার উত্তর দিতে পারলেন না।
অংকন ডায়াগনষ্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারের টেকনোলজিস্ট মানিক আরো হতবাক হয়ে যান এবং টেকনোলজিস্ট মানিক এর জালিয়াতি ধরা পড়ে যায়।
ভুয়া রিপোর্ট প্রদানে মানিক সর্বশেষ আকুতি মিনতি করে বলেন আমি ভুল করেছি আমাকে ক্ষমা করে দেন।
অংকন ডায়াগনষ্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারের টেকনোলজিস্ট মানিক ও প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক রিপন নিশ্চুপ হয়ে থাকলেন। এবং রিপন পরবর্তীতে এমন ভুল হবেনা বলে ভুক্তভোগী রোগীর কাছে তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ক্ষমা চান।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী রোগীর ভাই বলেন যে, অঙ্কন ডায়াগনষ্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারের কোন RBS ও hba1c পরিক্ষা রিপোর্ট এর রেকর্ড আমাকে দেখাতে পারেনি। তাদের মেশিনের আজকের তারিখে কোন পরীক্ষার রেকর্ড জমা নেই। তখনই আমি বুঝতে পারি যে আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এবং আমি সব বুঝেগেলে রোগীর রিপোর্টের জন্য নেওয়া ৮০০ টাকা কতৃপক্ষ ফেরত দেন।
এই বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী দৈনিক ভোরের ডাক জীবননগর উপজেলার সংবাদদাতা কে অঙ্কন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক রিপন বলেন যে, আমি একজন শিক্ষক আমি প্রতিষ্ঠান সুনামের সাথে ব্যাবসা করি। কিন্তু আজ আমার টেকনোলজিস্ট ভুল করেছে। আমি তার জন্য ক্ষমা চাই। এবং বলেন যে রিপোর্ট সঠিক না থাকায় রিপোর্টের ৮০০ টাকা আমরা ফিরত দিয়েছি।
একটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ভুল হলে রোগীর প্রাণহানিও হতে পারতো, তাই এমন ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এবং সেই সাথে এই প্রতি প্রতিষ্ঠান টি বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামায়।
এই বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার সিভিল সার্জন মারুফ হাসান মুঠোফোনে সাংবাদিক রনি কে বলেন যে, এরকম কিছু হলে আমরা অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


