![]() |
| লেখা: ঐশ্বর্য সাহা প্রিয়া |
তনয় লেখাপড়ায় তুখোড় ছিল। ওর ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে। খুব ভাল নাচ করতো তনয়। টিভি থেকেই তনয়ের নাচ শেখা।তনয়ের বাবা কখনই চাইতো না ছেলে মেয়েদের মত নাচ করুক বা শিখুক।
তনয়ের মেয়েদের মত আচারণে ওদের বাবা-মা দুজনেই বিরক্ত। তনয়কে বকা দিয়ে মেরেও ওর মেয়েদের আচারণ বন্ধ করা যায় নি। একদিন তনয়ের বাবা বাজার থেকে এসে তনয়ের মেয়েদের সাজ দেখে তাকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। শুধু মেয়েদের মত সাজের কারণেই তনয়কে সেদিন বাড়ি থেকে বের করে দেয় নি। সমাজের মানুষের কটু কথা সহ্য করতে না পেরেই তনয়ের বাবা তাকে বের করে দেয়। সাথে মেয়ের ভবিষ্যতের কথাও চিন্তা করে তনয়ের বাবা। তনয়ের মা অনেক চেষ্টা করেও আটকাতে পারে নি। তনয়ের বাবা রাগের বশে তাকে বলে তনয় যদি ওই বাড়িতে পা রাখে তাহলে সে মারা যাবে।
তনয় সেদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। বড় রাস্তার মোড়ে এসে সে দেখে কিছু হিজরা চাঁদা তুলছে।সে ছোট থেকেই হিজরাদের খুব ভয় পেতো।সে তাদের দেখে একটা গাড়ির পেছনে লুকিয়ে থাকে। পেছন থেকে একদল হিজরা তার সামনে চলে আসে।তনয়কে তারা তাদের সাথে নিয়ে যায়।তনয় মনে মনে ভাবতে থাকে বিধিরাম আজ তার বাবা-মা তাকে বের করে দিয়েছে আর আশ্রয় দিচ্ছে সে যাদের ভয় পেতো।তনয়কে তারা নিয়ে যায় তাদের আস্তানায়। যেখানে সব হিজরারা একসাথে থাকে।তনয়কে তাদের সর্দারের কাছে নিয়ে যায়।সর্দার তাদের বলে তনয়ের নাম পরিবর্তন করে মেয়েদের নাম রাখতে মেয়েদের জামা-কাপড় কিনে দিতে।
শুরু হলো তনয়ের নতুন পথ চলা। তনয় থেকে হলো তানিয়া। প্রথম প্রথম তানিয়ার দিনগুলো ভালই গেলো।কষ্ট শুরু হলো যখন থেকে ওকে চাঁদা তুলতে বলা হয়েছিল। তানিয়া কখনই পছন্দ করতো না এই চাদাবাজি। সে সর্দারের কাছে লেখাপড়া করার অনুমতি চাইলো। তখন সর্দার তাকে অনেক পিটানি দিয়ে ঘরে বন্ধ করে রাখে।তানিয়া অনেক চেষ্টা করে পালিয়ে যাওয়ার ব্যার্থ হয় বারবার।তানিয়া শারিরীক ও মানষিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একটা নোট রেখে আত্মহত্যা করে।নোটটাতে লেখা ছিল
'এই সমাজে যতদিন না তৃতীয় লিঙ্গের ওপর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে ততদিন হিজরাদের চাদাবাজি বন্ধ হবে না, বন্ধ হয়ে যাবে তনয় থেকে তানিয়া হওয়ার পরেও একটা মানুষের স্বপ্ন।বঞ্চিত হতে হবে মা-বাবা বোনের ভালবাসা থেকে।
ভালো থেকো অসুস্থ সমাজ।'



