মোহাম্মদ
তৌহিদ : কোনও এক অজানা সময় থেকে মানুষ এই পৃথিবীতে
বসবাস শুরু করে। মানুষের স্বপ্ন বেড়ে এই পৃথিবীর কোনও-না-কোনও ভূখণ্ডকে কেন্দ্র
করে। কারও স্বপ্ন থাকে বিশ্বজোড়া! প্রশ্ন হলো আপনি-আমি যারা ‘আমজনতা’ তাদের
স্বপ্নগুলো আসলে কেমন? বিশ্ব
রাজনীতির ডামাডোল আপনার আমার স্বপ্নকে কেড়ে নিতে পারে কি? আপনার সুন্দর ভবিষ্যৎত গঠনে সুদূর মার্কিন মুল্লুকের কেউ কিংবা পুব
দেশের কোনও নেতা বাধা হতে পারে কি? সহযোগিতার হাত বাড়াতে
পারে কি? অথবা, অদৃশ্য কোনও
শক্তি এসে আপনার স্বপ্নগুলোকে ভেঙে খান খান করে দিতে পারে কি?!
এমন অদ্ভুত (কিন্তু বাস্তবসম্মত) ভাবনা
‘আমজনতা’ কখনও ভাবতে যায় না। ৯টা-৫টা অফিস করে, দেশ-বিদেশের রাজনীতি নিয়ে দু’কলম পড়ে,
বন্ধুমহলে চার লাইন বক্তৃতা ঝেড়ে, চায়ের টেবিলে কিছুটা ঝড়
তুলে পরিবারের কাছে ফিরলেই যথেষ্ট। আমাদের ওতেই চলে। আমজনতার এর বেশি কিছু লাগে
না। স্থির লক্ষ্য থাকে রাজধানীতে দু’একটা ফ্ল্যাট, বন্ধু/সহকর্মী
মিলে শহর থেকে খানিক দূরে একটা কৃষি প্রজেক্ট, আর শেষ
বয়সের জন্য একটা নিশ্চিন্ত ‘পেনশন স্কিম’... ব্যাস। কেউ কেউ ধর্ম-কর্ম-চর্চা করে
সাধ্যমত পরকালটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। দুনিয়ার যাই হোক-না-কেন, আমজনতা নিজেরটা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। এটাই বাস্তব ও প্রচলিত ধারা।
কিন্তু, এর কি ব্যতিক্রম হবার নয়? ইতিহাস বলে
ব্যতিক্রমটাই মহাসত্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল সময়ের বাঁকে বাঁকে। আপনি-আমি যা দেখি,
যা ভাবি তার আড়ালে কেউ বা কারা সভ্যতার উত্থান পতনে কল-কাঠি নেড়ে
থাকেন। আমজনতা শুধু ফলাফল দেখে, আর তার আলোকে স্বপ্ন বুনে
যায়। পর্দার অন্তরালের ‘ওরা’রুই-কাতলাসম বড় বড় সুফল ঘরে তোলে।
প্রচলিত ধ্যান ধারণার বাইরে গিয়ে সত্য খোঁজা, সত্য বোঝা এবং সে সত্য আঁকড়ে ধরে স্বপ্ন বোনার
সাধ্য ‘আমজনতার’ থাকে না। কারণ, ৯টা-৫টার চাকরি, অবসরে দোকান-ব্যবসা সামলানো আর পুরো সময়জুড়ে পরিবার ও সামাজিকতা
রক্ষাতেই তার ভীষণ কঠিন অবস্থা!
এই যখন দশা,
তখন সে আমজনতার একজন যখন কলম ধরবে, সে
কলমও যে চলতে চাইবে না তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু যখন সুখের স্বপ্ন-বাগান মিথ্যার
আগুনে জ্বলে-পুড়ে তছনছ হতে থাকে তখন কলমের তরবারি দিয়ে পর্দার অন্তরালের ওই
শত্রুকে বধ করার প্রাণান্তকর চেষ্টা করাটাই একমাত্র কর্ম ও ধর্ম হয়ে দাঁড়ায়।
আমার এ ধারাবাহিক কলাম সে চেষ্টাই মাত্র। যারা
বুঝবেন— সঙ্গে থাকবেন, যারা
তুচ্ছ জ্ঞান করবেন— তারা দূরে গিয়ে ভালো থাকবেন। এর বাইরে যা করবেন— তা আপনার
নিজের ওপরই বর্তাবে।
ধারাবাহিক আয়োজনের ভূমিকা এ পর্যন্তই।


