বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছেন। নেতাকর্মীদের সাহস দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে তাঁর ছিলো অনন্য ভূমিকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গমাতার জন্মদিনের আয়োজনে একথা বলেছেন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শনবিার (৮ আগস্ট)। প্রধানমন্ত্রী সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 

মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এরপর বঙ্গমাতার কর্মময় জীবনের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশন করা হয়। বেগম মতিয়া চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গমাতাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন তিনি। 

বঙ্গমাতা অসাধারণ বুদ্ধি, সাহস, মনোবল, সর্বসংহা ও দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেন তিনি। তিনি কখনো সাহস হারাননি। আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে শক্তি, সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

কন্যা শেখ হাসিনা মায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৫৮ সালে মার্শল ল’ জারি হওয়ার পর আব্বা আলফা ইন্সুরেন্সে চাকরি করতেন। এই দু’বছর আমার মা সংসারের স্বাদ পেয়েছিলেন। কারণ তখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিলো রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হওয়া স্বত্ত্বেও আমার মায়ের কোনো অহমিকা ছিলো না। সবসময় পরামর্শ দিয়েছেন তিনি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে দলকে সুসংগঠিত করতে।

এর আগে, গোপালগঞ্জের একশো জন অস্বচ্ছল মহিলার মাঝে বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষ্যে সেলাই মেশিন ও একশো জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে ল্যাপটপ উপহার দেয়া হয়।

এদিকে, বনানী কবরস্থানে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সমাধিতে শনিবার সকালে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে  যুব লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর আয়োজন করা হয় দোয়া মাহফিলের। এসময় মোনাজাত করা হয় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে।

১৯৩০ সালের ৮ই আগস্ট শেখ ফজিলাতুন্নেছা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন, তিনি রেণু নামে পরিবারে পরিচিত ছিলেন। শেখ মুজিবের সঙ্গে ১৩ বছর বয়সে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন তিনি। 

শেখ ফজিলাতুন্নেছা শুধু সহধর্মিনী হিসেবে নয়, রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আজীবন প্রিয়তম স্বামী শেখ মুজিবের ছায়াসঙ্গী ছিলেন। শেখ ফজিলাতুন্নেছা  বঙ্গবন্ধুর সপরিবার হত্যাযজ্ঞে ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট কালরাতে তিনিও শহীদ হন।