কক্সবাজার বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে ০৩ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত এবং ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার হওয়া প্রসংগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’নীতি ঘোষণার প্রেক্ষিতে বিজিবি বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। 

এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৯ জুলাই ২০২০ তারিখ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর তমব্রæ বিওপি’র সদস্যগণ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কতিপয় ইয়াবা ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মায়ানমার হতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে এমন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪  বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ, বিপিএম-সেবা, জি+ এর নেতৃত্বে তমব্রæ বিওপি হতে ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি চৌকস আভিযানিক টহল দল কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলাধীন ৪নং রাজাপালং ইউনিয়নের তুলাতলী জলিলের গোদা ব্রীজ হতে আনুমানিক ৫০ গজ পশ্চিম দিকে রাস্তার ঢালুতে অবস্থান গ্রহণ করে। 

পরবর্তীতে আনুমানিক ০৩৪৫ ঘটিকায় ১০/১২ জনের ০১টি দল পাহাড়ী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে তাদের হাতে থাকা অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। এ সময় টহল দল তাদের জান-মাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ী জঙ্গলের ভিতরে পালিয়ে যায়। অতঃপর টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে অজ্ঞাতনামা ০৩ (তিন) জন ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় এবং তাদের পার্শ্বে ইয়াবা সদৃশ বস্তু এবং দেশীয় তৈরী পাইপগান পড়ে থাকতে দেখে। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তিদের জীবন রক্ষার্থে চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নাম ও ঠিকানা নিন্মরূপ বলে জানা যায়:

ক। নুর আলম (৪৫), পিতা-মৃত জুলুর মল্লুক, তমব্রæ কোনাপাড়া রোহিঙ্গা শিবির, থানা-নাইক্ষ্যংছড়ি, জেলা-বান্দরবান।
খ। মোঃ হামিদ (২৫), পিতা-মোঃ গোড়া মিয়া, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১, বøক-জি/২৯, থানা-উখিয়া, জেলা-কক্সবাজার।
গ। নাজির হোসেন (২৫), পিতা-মোঃ সৈয়দ হোসেন, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২, বøক-ডি/৪, থানা-উখিয়া, জেল-কক্সবাজার।

উল্লেখ্য, উক্ত গোলাগুলির ঘটনায় ০২ জন বিজিবি সদস্য আহত হয় এবং আহত বিজিবি সদস্যদের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। অতঃপর বিজিবি টহল দল বিষয়টি উখিয়া থানাকে অবহিত করলে পুলিশের একটি টহল দল উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে উপস্থিত হয় এবং মৃত ব্যক্তিদের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত পূর্বক লাশ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। 

ঘটনাস্থল হতে নিম্নবর্ণিত মালামাল উদ্ধার করা হয়:

ক। বার্মিজ ইয়াবা আনুমানিক ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) পিস (যার আনুমানিক মূল্য ৯,০০,০০,০০০/-    (নয় কোটি) টাকা।
খ। দেশীয় তৈরী পাইপগান - ০২টি । 
গ। পাইপগানের কার্তুজ - ০৫ রাউন্ড।

উল্লেখ্য, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ০১ জানুয়ারি ২০২০ হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বিজিবি টহলদল কর্তৃক ৩৪,২৩,৮৯,১০০/- (চৌত্রিশ কোটি তেইশ লক্ষ ঊননব্বই হাজার একশত) টাকা মূল্যের ১১,৪১,২৯৭ পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ ৮৯ জন আসামী আটক করে। এছাড়াও বিজিবি’র সাথে বন্দুক যুদ্ধে ০৯ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।